লক্ষণ জানলে বাঁচতে পারে আপনার জীবন। কারণ হৃদরোগ হচ্ছে নিরব ঘাতক এবং যে কেউ এতে আক্রান্ত হতে পারে। নিয়মিত শরীর চর্চার অভাব, কথা বলা সময় মাত্রারিক্তভাবে চেঁচিয়ে কথা এবং শরীরে অতিরিক্ত দূর্বলতা এই রোগের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রত্যেকরই এ রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জানা দরকার বলে মনে করেন কলম্বিয়ার এশিয়া হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. অনিল বানসাল।
অনিল বানসাল জানান ‘মন ভেঙে গেলে হার্টেও ভাঙন’—এটি কেবল কথার কথা। ‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’ একটি সমস্যা বটে। তবে এ রোগের কারণ, লক্ষণ জানতে পারলে অনেকাংশে কমে যায় হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি। বাঁচতে পারে জীবন।
তিনি বলেন, হৃদরোগের সবচেয়ে সচরাচর উপসর্গ হলো বুক ব্যথা বা অস্বস্তি- এটা আমরা সবাই জানি। তবে এটিই সব সময় একমাত্র উপসর্গ নয়। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে শ্বাসকষ্ট,পাকস্থলির উপররের দিকে অসহনীয় ব্যাথা অনুভব করা, বাম বাহুতে ব্যাথা, মাথা হালকা লাগা, শরীরের ওপরের অংশে যেমন—পিঠ, পেট, গলা, ঘাড় বা চোয়ালে ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে।
অনেকেই হৃদরোগের লক্ষণ জানেন না এবং বুঝতে পারেন না । ফলে বিশ্বে প্রতিবছর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রচুর মানুষ মারা যায়। তাই যদি এই রোগের লক্ষণ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায় । তবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষের মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, পুরুষের ক্ষে্ত্রে হৃদরোগের সচরাচর লক্ষণ হচ্ছে বুকে ব্যাথা অনুভব করা। অন্যদিকে এ রোগের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, পানির প্রতি চাহিদা কমে যাওয়া, ঘাড়-গলায়-চোয়ালে ব্যাথা অনুভব হওয়া ইত্যাদি লক্ষণগুলো নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
এই সকল লক্ষণ গুলো কেউ টের পেলে তাকে তাৎক্ষাণিক নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ইসিজি করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বানসাল । তিনি বলেন, এই রকম ক্ষেত্রগুলোতে অবহেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। এতে করে বাঁচতে পারে আপনার জীবন। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।

No comments:
Post a Comment