Channel Atv

সময়ের সাথে এগিয়ে চলে সাহসের সাথে কথা বলে

আসুন নিজেকে বদলায়। প্রতিদিন একটি ভালো কাজ করি। সুন্দর জীবন ও সমাজ গড়ি। নতুন সকাল

Breaking

Thursday, October 18, 2018

মানসিক রোগের কারণে কর্মদক্ষতা কমে যাচ্ছে

সিএটিভি রিপোর্ট: দেশের ১৮ বছরের বেশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ১৬ শতাংশ এবং ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ১৮ শতাংশ মানসিক রোগে ভুগছে। এই চিত্র জাতীয় জরিপের। 
তবে দেশে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ আছেন মাত্র ২২০ জন। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে অন্য জনবলও অপ্রতুল। সম্প্রতি একটি গোলটেবিল বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য’।

বিশ্ব এখন প্রযুক্তি অধ্যায়ে। আবার জলবায়ুর পরিবর্তনে বদলে গেছে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি। সেদিক থেকে বিবেচনায় এবারের প্রতিপাদ্য যথার্থ। যুগের পরিবর্তিত এ ধারায় খাপ খাওয়াতে না পেরে তরুণ মনে মানসিক বৈকল্য দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।

আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়েই মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি এখন পর্যন্ত অবহেলিত। অথচ মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া সবচেয়ে জরুরী।সমাজে মানসিক রোগী ও তার পরিবারের কোনো মর্যাদা নেই। মানসিক রোগের কারণে জনগণের কর্মদক্ষতা কমে যাচ্ছে, ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। দরিদ্র জনগণ মানসিক রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে। তাই মানসিক চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের সাহায্য-সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

এক হিসেবে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৫০ লক্ষ  প্রাপ্ত বয়স্ক (যা সার্বিক জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ) এবং শতকরা ২০ জন ১২ থেকে ১৭ বছরের শিশু/কিশোর কোন না কোন মানসিক বিশৃংঙ্খলা বৈকল্যে আক্রান্ত। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে,  গ্রামে শতকরা ১৭.৩ জন শিশু এবং শহরে শতকরা ১৪.৩ জন শিশু মানসিক বিশৃঙ্খলা বৈকল্যে আক্রান্ত (জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ২০১১)। এদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা এবং সুযোগ সুবিধা  খুবই অপ্রতুল।

বিশ্বের প্রায় অনেক দেশেই বিশেষ করে বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশে সার্বিক স্বাস্থ্য সেবাখাতের বাজেটের খুব নগণ্য একটি অংশই মানসিক স্বাস্থ্য সেবাখাতে ব্যয় করা হয়। দেশে বর্তমানে সরকারী পর্যায়ে দৈনিক ভিত্তিতে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের কোন ব্যবস্থা নাই।

আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজে মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যতক্ষণ জেগে থাকি, তার তিন ভাগের দুই অংশ, প্রায় সবটাই কিন্তু আমরা কর্মক্ষেত্রে থাকি। এখানে যদি মানসিক স্বাস্থ্য সঠিক না থাকে অথবা স্বাস্থ্য সঠিক না থাকে, মন সঠিক না থাকে, চিন্তা সঠিক না থাকে, তাহলে তাঁদের কাজকর্মে কোনো স্পৃহা থাকবে না।’

দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটি এবং ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এর যৌথ উদ্যোগে ৯, ১০ ও ১৩ অক্টোবর, ২০১৮ তিন দিন ব্যাপি বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

আজও ৩টি সেমিনারের আয়োজন রয়েছে। সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-এর মিলনায়তনে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য’-শীর্ষক উদ্বোধনী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সংকটাপন্ন রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই মনোসামাজিক সেবা’- শীর্ষক ২য় সেনিমারটি অনুষ্ঠিত হয়েছে দুপুর ১২টায়। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে  ‘সময়ের দাবি- হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের দ্রুত নিয়োগ দিন’- বিষয়ক ৩য় সেমিনারট ।

এছাড়াও বিশেষ আয়োজন হিসেবে থাকছে ১৩ অক্টোবর ৫টি বিশেষ কর্মশালা। কর্মশালা সমূহের মধ্যে রয়েছে-মানবিক বিপর্যয়ে মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা; প্যারেন্টিং স্কিল ট্রেনিং; উদ্বেগ ব্যবস্থাপনা; শিক্ষণ কৌশল; রাগ নিয়ন্ত্রন; মানসিক চাপ মোকাবেলা, মাইন্ডফুলনেস; অটিজম; ফ্যামিলি থেরাপি; নিউরোসাইকোলজি; স্ব-প্রণোদিত আসক্তি নিয়ন্ত্রন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Responsive Ads Here

আজকের ভোরের ডাক পড়ুন এখানে